৩৬

টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ হওয়ায় সংকটাপন্ন ক্রিস্টা পাইক; শরীরে অন্তত ৭টি সুচ ফুটিয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ আইনজীবীদের, তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত সরকারের।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক চেষ্টার পর মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন দেশটির একমাত্র নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ক্রিস্টা পাইক (৫০)। যন্ত্রণাদায়ক ওই ব্যর্থ চেষ্টার দুদিন পর বর্তমানে হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সহায়তায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাঁর আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল ও লুক ইহনেন এক বিবৃতিতে জানান, মৃত্যুদণ্ডে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ‘পেন্টোবার্বিটাল’-এর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং হাত দুটো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় কড়া পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে ওই ব্যর্থ চেষ্টার সকল নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য ডেভিডসন কাউন্টি চ্যানসেরি আদালতে একটি জরুরি আবেদন করা হয়েছে।

আদালতে পেশ করা নথিতে বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ক্ষারীয় রাসায়নিক ‘পেন্টোবার্বিটাল’ প্রয়োগের সময় ক্রিস্টা পাইক তীব্র যন্ত্রণায় কেঁদে ওঠেন এবং আকুতি জানিয়ে বলেন যে তাঁর মনে হচ্ছে বাহু ফেটে যাবে। শরীরে সুচ ফোটানোর জন্য কমপক্ষে ৭টি ক্যানুলা ব্যবহার করা হয়, যার একটি বের করার সময় ৯০ ডিগ্রিতে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তাঁর দুই হাত ফোলা, পোড়া ও পচন ধরা ফোসকায় পূর্ণ।

আইনজীবীরা আরও জানান, আগে থেকেই পাইকের রক্তে ‘থ্রম্বোসাইটোসিস’ রোগ ও শিরা অতিরিক্ত ছোট হওয়ার সমস্যা ছিল, যার ফলে এ ধরনের বিষাক্ত ইনজেকশনে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা চালানো হয়।

টেক্সটবুক অনুযায়ী, ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এমন চেষ্টা এটিই প্রথম। মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার’ এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের “সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বিভৎস ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এ ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে টেনেসির গভর্নর বিল লি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তৃতীয়-পক্ষীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলতি বছর হতে যাওয়া সকল পূর্বনির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহকর্মী কলিন স্লেমকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি টেনেসির কনডেম সেলে মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুণছিলেন।