৩৪

তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য; অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অভিযানে সংঘাত নিরসন সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট বার্তা আব্বাস আরাগচির

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত ও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক বিশেষ সমাবেশে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাত কিংবা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংকটের সমাধান হবে না। প্রতিপক্ষ যদি আবারও সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান আগের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে পাল্টা হামলা চালাবে এবং কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তেহরানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শক্তির মহড়া দেখিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতজানু করার সময় শেষ হয়ে গেছে।” যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি জানান, জোরজবরদস্তি করে দাবি চাপিয়ে দেওয়ার দিন পার হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হামলায় কোনো সমাধান সম্ভব নয়; কেবল ন্যায্যতা, মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই যেকোনো সংঘাতের টেকসই অবসান ঘটতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো যদি নতুন করে কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ বা আক্রমণের চেষ্টা চালায়, তবে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং এবার তাদের প্রতিঘাত হবে আগের যেকোনো জবাবের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও প্রলয়ংকরী।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসীমা ও প্রণালিগুলোতে সামরিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং অন্যদিকে ইরানের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থান পুরো আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য এ-ও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তারা সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার পথ সব সময় খোলা রেখেছেন। তবে কোনো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না; দেশ রক্ষা ও যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।