২৭

ঝুঁকি অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতি ও ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার মন্তব্যে বাধ্য হয়ে সামরিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে অটোয়া।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের ইতিহাসে অকল্পনীয় এক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। চিরমিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, তিনি এমন এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির জন্য প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা একসময় কানাডিয়ানদের চিন্তার বাইরে ছিল। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে মার্কিন-কানাডা সম্পর্ক নতুন মেরুকরণের মুখে পড়েছে। যদিও এই আক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম এবং সম্ভাবনাও ক্ষীণ, তবুও সব ধরনের জাতীয় ঝুঁকি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।”

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের হুমকি এবং কানাডাকে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বাসনা প্রকাশের পরই অটোয়া তাদের সামরিক নীতি পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়।

যদিও ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা “নেই বললেই চলে” এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগই তাঁর মূল কৌশল। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার মহান জনগণের সুরক্ষায় অন্য যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন।”

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন-কানাডা যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় হওয়ায় সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাস্তবে শূন্যের কোঠায়। তবে ট্রাম্পের খামখেয়ালি কূটনৈতিক বার্তা ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের কারণে সাধারণ কানাডিয়ানদের মধ্যে এক গভীর উদ্বেগ ও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে।