১৯২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে হওয়া শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির বিষয়গুলো আবার সামনে এসেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তাধীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যার মেয়াদ বুধবার (যুক্তরাষ্ট্র সময়) শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলা হয়। পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও পণ্য রপ্তানির জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের অনুমতি দেয়। তবে শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে ইসলামাবাদে বৈঠক হলেও তা কোনো চূড়ান্ত সমাধান আনতে পারেনি।

চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। একই সময় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যেও একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে এবং লেবানন সরকারকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি; বরং আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।