২৫

জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে; বঙ্গোপসাগর সংলাপে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আঞ্চলিক সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা: জনগণের শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরের নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি প্রদান থেকে সরাসরি তা বাস্তবায়নের ধাপে উন্নীত হয়েছি।”

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছর বিওবিসির মূল প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন’। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এবং ১,০০০-এরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নিচ্ছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা সহ বিশ্বনেতারা উপস্থিত রয়েছেন।

কার্ড ব্যবস্থা ও ১০০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট কল্যাণমুখী পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • ফ্যামিলি কার্ড: দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মায়েদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
  • কৃষক ও হেলথ কার্ড: কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর অধীনে সব সেবা এক ছাতার নিচে আনা হবে।
  • স্বাস্থ্য খাত: তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ করছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের জন্য হওয়া উচিত নয়, এটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করবে।” তিনি জানান, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে পোশাক, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও উপবৃত্তি দেওয়া হবে এবং মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করা হচ্ছে।

এছাড়া তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ভাষা শিক্ষা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নদী খনন, পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক কারখানা

কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ পুনঃখননের বৃহৎ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা নদী নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, “বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি শীর্ষ LEED-সার্টিফাইড পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে।”

রোহিঙ্গা সংকট ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল

প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম স্তম্ভ অভিহিত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন, জ্বালানি ও জলবায়ু ইস্যুতে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।