১৭

চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় প্রাণ গেল ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্সের; সুবিচারের দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি বিথীর পরিবারের।

রাজবাড়ী (বিশেষ প্রতিনিধি): ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রায় ছয় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা ও পেশায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫)।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ই অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

স্বজনরা জানান, গত ৬ই মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বিথী। তবে অভিযোগ ওঠে, অস্ত্রোপচার শেষ করার আগেই অসাবধানতাবশত তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। সিজারের পর থেকেই বিথী পেটে তীব্র যন্ত্রণা ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন।

শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে প্রথম সিজারের দুই মাস পর, গত ১৫ই জুলাই বিথীর পেটে আবারও একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে পড়লে দীর্ঘদিন তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ই অক্টোবর বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই আমার স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। নবজাতক সন্তানটি মাকে কাছে পাওয়ার আগেই মাতৃহারা হলো। অবহেলাকারী চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করব।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।