২৯

শত শত আইনজীবী ও বড় বড় শিল্পপতির শহর নারায়ণগঞ্জ। অথচ এই শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ’ আজ অব্দি একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নিজস্ব ভবন পায়নি। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকা লড়াকু মুখ এবং জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী ফতেমা আক্তার মাহমুদা (ইভা) ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজের সার্বিক উন্নয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গত সোমবার (১ জুন) এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি কলেজের অভ্যন্তরীণ সংকট, দলের নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

“লাখ লাখ টাকা আয় করা আইনজীবীরাও এগিয়ে আসেননি”

বিবৃতিতে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে ফতেমা মাহমুদা ইভা বলেন,

“এই নারায়ণগঞ্জ শহরে অনেক নামকরা আইনজীবী, বড় বড় শিল্পপতি এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিগত ছয় বছরে আমি একজন বড় ব্যবসায়ী বা আইনজীবীকেও এই কলেজের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে দেখিনি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই একেকজন সম্মানিত আইনজীবী তৈরি হচ্ছেন, অথচ এর উন্নয়নে কেউ হাত বাড়ায়নি।”

তিনি আরও বলেন,

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেতা শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান ভাইয়ের কাছে আমার বিনীত আবেদন—কেউ যা ভাবেনি, আপনি তা করে দিন। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের দিকে আপনি একটু দৃষ্টি দিন। আমার স্বপ্ন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে একটি অত্যাধুনিক ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হোক, যার চারপাশে সুন্দর বাগান, একটি সমৃদ্ধ বড় লাইব্রেরি এবং শিক্ষার্থীদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই আধুনিক ভবনটি যেন অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে দৃষ্টিনন্দন হয়।”

ইভা আরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এই ভবন নির্মাণ প্রকল্প তদারকি ও কলেজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁকে একটি সর্বোচ্চ সম্মানিত পদ বা দায়িত্বে অর্পণ করেন।

৬ বছরের ত্যাগ ও পদবি পুনর্মূল্যায়ন দাবি

বিবৃতিতে এই ছাত্রনেত্রী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিগত ছয়টি বছর ধরে তিনি নিজের খেয়ে না খেয়ে, শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে মাঠে কাজ করছেন। বিশেষ করে, বিগত ৩ বছর ধরে শত বাধার মুখেও তিনি জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের প্রথম দিককার নেত্রী হিসেবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বর্তমানে নিজের অর্পিত পদবিতে বঞ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দলীয় প্রধান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,

“সংগঠনের জন্য আমি যেভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও তা ধরে রাখতে চাই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান ভাইয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—আমার ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করে পদবিটি পরিবর্তন করা হোক এবং একটি সম্মানজনক ও যোগ্য দায়িত্ব (যেমন এজিএস) প্রদান করা হোক, যাতে আমি দ্বিগুণ উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে পারি।”

ভিপি সাদ্দামের নেতৃত্বে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের আহ্বান

দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের বিভেদ বা চক্রান্তের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানিয়ে ইভা বলেন, নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সম্মানিত ভিপি খন্দকার সাদ্দামের সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। খন্দকার সাদ্দাম ভাইয়ের হাত ধরেই জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরাম এই কলেজে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। তিনি বর্তমান কমিটির সকল নেতাকর্মীকে অতীতের মতোই ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ছাত্র রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ফতেমা মাহমুদা ইভার মতো মাঠপর্যায়ের এবং দুঃসময়ের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দলের কঠিন সময়ে যারা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এবং সামাজিক বা প্রতিপক্ষের নানা কটূক্তি (যেমন পর্দা বা বোরকা পরা নিয়ে কটাক্ষ) উপেক্ষা করে সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)-এর মতো সম্মানজনক পদে মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূলের কর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হবে।

বিবৃতির শেষাংশে ফতেমা মাহমুদা আক্তার ইভা আইন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ফোরামের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আগামী দিনের পথচলায় সাফল্য ও শুভকামনা জানান।