১৭৯

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পটে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক দর্শকের মূল্যবান মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান ধারণের সময় এই গণচুরির ঘটনা ঘটে। আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

গেটে অব্যবস্থাপনা ও অনধিকার প্রবেশ

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইত্যাদি’র এই বিশেষ পর্বটি উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের পাসের (টিকিট) ব্যবস্থা ছিল। তবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় মূল ফটকে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পাস হাতে থাকা সত্ত্বেও নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার আমন্ত্রিত অতিথিকে তীব্র ঠেলাঠেলি ও হট্টগোলের মধ্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এই ধাক্কাধাক্কির সুযোগে ভিড়ের মধ্যে ওত পেতে থাকা পকেটমার চক্রটি নিমেষেই দর্শকদের পকেট এবং নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একের পর এক দামি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেয়।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় তিন হাজার আমন্ত্রিত অতিথির বসার আসন বরাদ্দ ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার পাস বা টিকিট ছাড়াই আরও কয়েক হাজার বহিরাগত মানুষ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এবং দেয়াল ও সীমানা প্রাচীর টপকে অনধিকার ভেতরে প্রবেশ করেন। এতে পুরো এলাকায় হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এই বিশৃঙ্খলার কারণে ধাক্কাধাক্কিতে বেশ কয়েকজন দর্শক আহতও হয়েছেন। পরবর্তীতে চরম অব্যবস্থাপনার প্রতি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে শত শত আমন্ত্রিত পাসধারী অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

সাংবাদিকদের ফোনও রেহাই পায়নি

পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এই চোর চক্রের খপ্পরে পড়েছেন খোদ কর্মরত সাংবাদিকেরাও। অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদসহ অন্তত ৭ জন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকের দামি স্মার্টফোন চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারীসহ বহু সাধারণ দর্শক তাদের ফোন হারিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন,

“প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয়। আমরা ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই দেখি আমার পকেটে মোবাইলটি নেই। তাৎক্ষণিকভাবে গেটে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি জানাই। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আরও ৬ জন সাংবাদিক এবং জেলা প্রশাসনের ১ জন কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাদের মোবাইল চুরির কথা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু পুলিশকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।”

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

নিরাপত্তার দায়িত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও তারা এই বিশাল ভিড় ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফারুক জানান, “‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য নরসিংদী ও এর আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শক অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হয়েছিলেন। এই বিশাল জনস্রোতের সুযোগ নিয়ে হয়তো কিছু চোরচক্রও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। অনুষ্ঠানে বেশ কিছু দর্শকের মুঠোফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীরা থানায় সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে, তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি ট্র্যাকিং) সহায়তায় মুঠোফোনগুলো উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”