২২২

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর আজিজুর রহমান (৫০) লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটার সময় ভারতের ১৮৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আমবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা আজিজুরকে আটক করে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, আটকের পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১০ মাস কারাগারে থাকার পর গত ২২ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওইদিন বিকেলে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। এ সময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম জানান, আটক অবস্থায় বিএসএফ সদস্যদের মারধরের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেই অবস্থাতেই কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর আজিজুরের জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।