১১৫

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সরকার সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, যেসব উপজেলায় হামের প্রকোপ বেশি, সেখানে দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। রোববার সকাল থেকেই সারাদেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভির সহায়তায় ইতোমধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। যদিও জাতীয় টিকাদান সূচি অনুযায়ী সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, তবে সংক্রমণ বাড়ায় এবার ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে নিবন্ধন ও অভিভাবকদের অবহিত করা হবে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহেও আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, যেখানে অনেকেই পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়নি।

হামের জটিলতা মোকাবিলায় শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা কমাতে ‘বাবল সিপ্যাপ’ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।