৫৪

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত এই অভিযানে যৌথ বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযান শুরুর আগে সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথেই বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি। যাতে অভিযান শুরু হওয়ার পর কোনো সন্ত্রাসী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন। অতীতে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হওয়ায় এবারের অভিযানে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‍্যাব। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। এছাড়া নুরুল হক ভান্ডারীসহ মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চারজন র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বিস্তৃত।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও জঙ্গল সলিমপুর এলাকা নগরের খুব কাছেই অবস্থিত। এর পূর্বদিকে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে রয়েছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা।

দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। গত চার দশকে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও সেখানে পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য।

এই অবৈধ প্লট-বাণিজ্য ও জমি দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, এসব সন্ত্রাসী সার্বক্ষণিক অস্ত্র নিয়ে পাহারা দিয়ে থাকে।

র‍্যাবের ওপর হামলার আগেও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিকও।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে বর্তমানে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন রোকন উদ্দিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ ইয়াসিন অতীতে আওয়ামী লীগের নেতা ও সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।

তবে র‍্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আসলাম চৌধুরী দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয়।