৩৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) মাত্র একদিনেই বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৯২ ডলার ছাড়িয়েছে। যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি। মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খাত টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও।

বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা গেছে। বিপরীতে তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন ক্রুড তেলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ৮০ ডলারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী মূল্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের পতন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।