২২

সীমান্তে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া ও কৃষিসম্প্রসারণের কারণে গারো পাহাড় সংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে আটকে আছে ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি; বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্বেগ জানালেও মিলছে না সমাধান।

শেরপুর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াসহ নানা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতার কারণে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো পাহাড়ের বাংলাদেশ অংশে আটকা পড়ে আছে ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি। দীর্ঘদিনের প্রথাগত চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত এই বন্যপ্রাণী সংকট নিরসনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের কাছে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়েই অতীতে হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ছিল। বছরের পর বছর ধরে এই আন্তর্জাতিক পথগুলো ব্যবহার করেই ক্রস-বাউন্ডারি হাতিগুলো দুই দেশেই অবাধে বিচরণ করত।

তবে ময়মনসিংহের বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মেঘালয় অংশে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া ও নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাতির প্রথাগত বিচরণের অনেক ভারতীয় অংশে কৃষকরা ব্যাপকভাবে কাজুবাদামের চাষাবাদ শুরু করায় হাতিগুলোর পক্ষে সেদিকে পুনরায় ফিরে যাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে গত কয়েক বছর ধরে সিংহভাগ হাতিই বাংলাদেশ সীমান্তে আটকা পড়ে আছে এবং দিন দিন সংখ্যাটি আরও বাড়ছে।

সীমান্তে এই প্রতিবন্ধকতা এবং হাতি আটকে পড়ার ফলে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রায়ই হাতির দল লোকালয়ে চলে আসায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সমাধান করতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানানো হলেও বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি।