৩৪

বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অকালে ঝরছে বহু প্রাণ; সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড বাসাবাড়িতে, ৩৬ শতাংশ আগুনের উৎস বৈদ্যুতিক গোলযোগ।

ঢাকা: দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও এর ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে সারা দেশে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৪৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে।

আজ রবিবার (১৮ই অক্টোবর ২০২৬) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ থেকে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে বড় অংশটি ঘটছে আবাসিক ভবন বা বাসাবাড়িতে। গত পাঁচ বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডে মোট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৫২ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল বাসাবাড়িতেই ক্ষতি হয় ২৬৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং প্রাণ হারান ৮৫ জন।

বৈদ্যুতিক গোলযোগই প্রধান কারণ: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩৬ শতাংশই ঘটে থাকছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিট থেকে। অসচেতনতা, ভবন নির্মাণে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড না মানা এবং নিম্নমানের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বহুল ব্যবহারকে এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অগ্নিনিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: আগুনের পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি করে— ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, সংবাদের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্টেশন থেকে গাড়ি বের হলেও সড়কের যানজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পৌঁছাতে সময় লাগে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ জানান, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগের ১০-১৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবনগুলোর বাসিন্দা বা ফার্স্ট রেসপন্ডারদের (প্রথম সারাদানকারী) প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম থাকা জরুরি, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি বেশি থাকায় সবাইকে বাড়তি সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।