২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, নদীদূষণ ও জাটকা নিধনে টানা দুই বছর উৎপাদনে ভাটা; ২২ দিনের প্রজনন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর।

ঢাকা: দেশের জাতীয় মাছ ও জিআই (GI) পণ্য ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন সুরক্ষায় নতুন সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জাটকা নিধন রোধ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং গবেষণা জোরদারের পাশাপাশি নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির খাদ্য সহায়তার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ই অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ বাসস (BSS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই তথ্যাবলী জানান।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন ও জাটকা রক্ষায় নতুন করে “মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তার যোগ্য জেলের সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। আগামী ৮ই অক্টোবর থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের মা ইলিশ প্রজনন নিষেধাজ্ঞা যেকোনো মূল্যে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ইলিশের সংরক্ষণ কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উৎপাদন হ্রাসের কারণ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন (যার বাজারমূল্য প্রায় ২০,৬৮০ কোটি টাকা)। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৫ লাখ টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫.৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আবদুল ওহাব জানান, অবৈধ কারেন্ট জাল ও বেহেন্দি জালের ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার এবং মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান খাদ্য প্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ ৬৮% পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার কারণে ইলিশের আকার ও সার্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা ইলিশ রক্ষায় প্রথাগত পদ্ধতির পাশাপাশি স্যাটেলাইট, জিআইএস (GIS), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে ‘স্মার্ট ইলিশ ব্যবস্থাপনা’ গড়ে তোলার সুপারিশ করেছেন।