৩১

যন্তর মন্তরের গণজমায়েত রুখতে দিল্লিতে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান; সংবেদনশীল নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি জোনে ভাগ করে স্টেডিয়ামগুলোকে রূপ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী কারাগারে।

বিভাগ / Category: আন্তর্জাতিক / International News

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে বিরোধী শিবিরের আহ্বানে বিক্ষোভ কর্মসূச்சியை কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটির রাজধানী দিল্লি। বিশাল এই বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড করতে আজ শনিবার (১০ই অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন অভিযানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ প্রায় ৫ হাজার আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’ (এএনআই) এবং ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই হাজার হাজার প্রতিবাদকারী দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে দিল্লি পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না থাকার অজুহাতে যন্তর মন্তরগামী বাস ও শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষকে আগাম হেফাজতে নেওয়া শুরু করে।

আজ সকালে বিমানে এসে নামার পরপরই আটক করা হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা এবং জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকে। এছাড়া সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিং এবং ইনফ্লুয়েন্সার কাব্য কর্ণাটককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

দুপুরের দিকে যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ সর্বভারতীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে পুলিশ। আটকের তালিকায় আরও রয়েছেন ত্রিপুরা ও অন্যান্য রাজ্যের একাধিক জ্যেষ্ঠ বামপন্থী ও বিরোধী নেতা—যেমন মানিক সরকার, এম এ বেবি, কে কে শৈলজা, ব্রিন্দা কারাত এবং মুম্বাই থেকে আটক মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়াদিল্লি জেলাকে বিশেষ ২০টি ‘অপারেশনাল জোনে’ বিভক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি জোনের অধীনে আলাদা আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অতিরিক্ত আটকের সংখ্যা সামাল দিতে দিল্লির প্রধান স্টেডিয়ামগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক কারাগারে (ডিটেনশন সেন্টার) রূপান্তর করে আটককৃতদের সেখানেই বন্দি করে রাখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে আন্দোলনের তীব্রতা মোকাবিলায় দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন যোগাযোগ স্থগিত করে রাখা হয়েছে—যা কেন্দ্র সরকার ও বিরোধী জোটে মুখোমুখি লড়াইকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।