৭৬

পরীক্ষার আমেজ বজায় রাখতে আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা; ৪০-৪৫ দিন আগে ঘোষিত হতে পারে প্রথম ধাপের তফসিল।

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা: আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাসের আগেই ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে এই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ইসি মাছউদ জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন আয়োজন করা হলে তার আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নির্বাচনের তারিখ জানুয়ারিতে স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে।

জুনের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য

ইসি জানিয়েছে, রমজানের আগে প্রথম তিন ধাপে প্রায় ২ হাজার ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর রমজান ও পরবর্তীতে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ শুরু করা হবে। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যেই দেশের ৪,৫৮০টি ইউপির মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪,২৭২টি ইউনিয়নের নির্বাচন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইউপি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পরপরই পর্যায়ক্রমে পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার।

আইনশৃঙ্খলা ও সেনাবাহিনীর ব্যবহার

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি মাছউদ জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার আশ্বাস পেয়েছে কমিশন। তাই শুরুর দিকেই ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ইসি। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নির্বাচনী সংশোধিত বিধিমালা জারি

এদিকে ইসি ইতিমধ্যে ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে। নতুন বিধি অনুযায়ী:

  • চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত: ২৫,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা)।
  • সদস্য প্রার্থীর জামানত: ৫,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ২ লাখ টাকা)।
  • জামানত বাজেয়াপ্ত: মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
  • শাস্তির বিধান: নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাধা প্রদান বা ভীতি প্রদর্শন করলে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার আইনি বিধান রাখা হয়েছে।