২২

বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করেছেন, শোকের ভারে ন্যুব্জ পরিবারকে একটু শান্ত করার সুযোগও মেলেনি। কারণ সংসারের একমাত্র উপার্জনের দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। রাত নামতেই হাত ঘড়ি ও বই নিয়ে ছুটতে হয়েছে এটিএম বুথের রাতের ডিউটিতে। আর ঠিক পরদিন সকালেই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে বসতে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়।

জীবনের এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হার না মানা লড়াইয়ের গল্প তৈরি করেছেন বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ইকন।

বাবার হঠাৎ প্রস্থান ও পরিবারের দায়ভার

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দারুণিয়া। তাঁকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জানাজা শেষে বিকেলেই গোপালগঞ্জে দেশের বাড়িতে বাবার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ইকনের বড় ভাই এক সময় উপার্জন করলেও একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাবা মোটরবাইক চালিয়ে সংসারের চাকা ঘোরাতেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের ওপর।

ডিউটির ফাঁকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি

পড়াশোনার খরচ ও সংসারের চাকা সচল রাখতে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করতেন ইকন। বাবার দাফন শেষ করেই মঙ্গলবার রাতে বিষাদ আর ক্লান্তি বুকে চেপে তিনি যোগ দেন নিজ কর্মস্থলে।

চোখে জল আর বুকভরা শোক নিয়ে রাতের নির্জন এটিএম বুথে যখন ডিউটি করছিলেন, একহাতে ছিল দায়িত্ব আর অন্যহাতে ছিল পরীক্ষার বই। রাতে বুথের ডিউটি শেষ করেই সকালে সোজা এইচএসসি পরীক্ষার হলে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে যান তিনি।

বাগেরহাটের সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা ইকনের এই কঠিন লড়াই ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কথা জেনে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন।