১৭৮

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ৪ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

যা ঘটেছিল সেই রাতে

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর (২০২৫ সাল) ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র ডাকাত আস্তানা গাড়ে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন দেশপ্রেমিক ও সাহসী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট নির্জন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে একজন ডাকাতকে হাতেনাতে জাপটে ধরেন। এ সময় ধৃত ডাকাতকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তার সহযোগী অন্য ডাকাতরা যৌথ বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে লেফটেন্যান্ট নির্জনের ঘাড়ে ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এই তরুণ সেনা কর্মকর্তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেনাবাহিনীর মামলা ও রায় প্রকাশ

কর্তব্যরত অবস্থায় সেনা কর্মকর্তা নিহতের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত করে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনগত যুক্তি-তর্ক ও উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করলেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে আইনের শাসন ও বীর সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।