২৪০

ইরান ঘোষণা করেছে, ইরাকি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ইঙ্গিত হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে দেশটির সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরাকের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তবে “শত্রু দেশগুলোর” ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।

বিবৃতিতে ইরান ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইরাকের সংগ্রাম প্রশংসার যোগ্য।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে “কঠোর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড তার বক্তব্যকে “দুর্বল, অস্থির ও অযৌক্তিক” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে কার্যত একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও তা ৯০ শতাংশেরও বেশি কম।

শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে ৫৩টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৩৬। সম্প্রতি একটি ফরাসি কনটেইনার জাহাজ ও জাপান-স্বত্বাধিকারী একটি ট্যাংকার প্রণালী পার হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরাকের তেল উৎপাদনও এই পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন দৈনিক ৪.৩ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ১.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

২০২৩ সালে ইরাক ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও এলএনজির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এই সংকট বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে এবং অনেক দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।