৮৭

রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে অভিনেতা শাকিব খান-এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ‘প্রিন্স’-এর দুই নায়িকা জ্যোতির্ময়ী ও তাসনিয়া ফারিণ। এরপর শাকিবের কিছু আচরণ নিয়ে নেটমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ সেখানে ‘অস্বস্তি’ ও ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগও তোলেন।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “এই বিষয়টা খুব বাজেভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওইখানে প্রচণ্ড ভিড় ছিল, আমরা ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না। তখন মিডিয়া থেকেই বলা হয়, শাকিব খানের সঙ্গে আমার আর ফারিণের ছবি তুলতে। সেই মুহূর্তে তিনি আমাদের গার্ড করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। “মিডিয়ার সামনে যেভাবে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, সেটা খুবই হতাশাজনক,”—মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।

বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করতেই চাইতো, তাহলে কি সে তিনশোটা ক্যামেরার সামনে সেটা করবে? আমার মনে হয়, বিষয়টি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।”

অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, “অস্বস্তির তো প্রশ্নই আসে না। এত ভিড় ছিল যে দাঁড়ানোই কঠিন ছিল। কো-আর্টিস্ট হিসেবে একজন আরেকজনকে প্রটেক্ট করাটাই স্বাভাবিক।”

‘ব্যাড টাচ’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “তিনশোটা ক্যামেরার সামনে কেউ আমাকে ব্যাড টাচ করবে, আর সেটা আমি সহ্য করবো? এটা কখনোই ব্যাড টাচ বা খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। নরমাল একটা বিষয়কে যারা বাজেভাবে ছড়াচ্ছে, সুস্থভাবে দেখলে বোঝা যাবে কী ধরনের পরিস্থিতি ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি দেখেছি, অনেকে ‘ব্যাড টাচ’-এর কথাও বলছেন। আচ্ছা, আমি কি বাচ্চা? আমাকে যদি ব্যাড টাচ করা হতো, আমি কি প্রতিবাদ করতাম না?”

শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, “তার সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো। ‘প্রিন্স’ করতে গিয়ে তিনি আমাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছেন, সেটা ভোলার নয়। কিন্তু দুঃখ লাগে, যখন কিছু মানুষ ভুলভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে দর্শকের কাছে উপস্থাপন করে।”

সবশেষে যারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “নরমাল বিষয়কে যারা নানা রঙ দিয়ে ছড়াচ্ছেন, তারা জেনে বুঝেই করছেন। এটা থামানো আমার হাতে নেই। তবে অনুরোধ থাকবে, দয়া করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিষয়টিকে বড় করে তুলবেন না—এটার কোনো অস্তিত্ব নেই।”