২০৭

ভূমিকম্প—এক অজানা আতঙ্কের নাম। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর কোনো উপায় না থাকলেও আগাম সতর্কতা প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমনই একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মোল্লা, যিনি উদ্ভাবন করেছেন ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ডিভাইস ‘ভূবন’।

এই ডিভাইসটি ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট সিসমিক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের ২০ থেকে ৯০ সেকেন্ড আগেই সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। উদ্ভাবকের দাবি, এর মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সম্প্রতি দেশে একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসেই অন্তত ১০ বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন প্রেক্ষাপটে ‘ভূবন’ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

ইব্রাহিম মোল্লা জানান, প্রাণীরা যেভাবে ভূমিকম্পের আগাম সংকেত বুঝতে পারে, তার পেছনে রয়েছে ‘প্রাইমারি ওয়েভ’ শনাক্ত করার ক্ষমতা। তার উদ্ভাবিত ডিভাইসটিও ঠিক একইভাবে প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে। যখনই এই প্রাইমারি ওয়েভ ধরা পড়ে, তখনই ডিভাইসটি সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করে দেয়। ফলে মূল কম্পন বা ‘সেকেন্ডারি ওয়েভ’ আসার আগেই মানুষ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় পায়।

উদ্ভাবক আরও জানান, বর্তমানে ডিভাইসটি নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবহার করা গেলেও ভবিষ্যতে এটি ভূগর্ভে স্থাপন করা গেলে সতর্কবার্তার সময় আরও বাড়ানো সম্ভব—যা ২ মিনিট পর্যন্তও হতে পারে।

দেড় বছরের গবেষণায় তৈরি এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে। ইব্রাহিম মোল্লা এই ডিভাইসটি সরকারের কাছে বিনামূল্যে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যাতে দেশের মানুষ এর সুবিধা পেতে পারে।

এরই মধ্যে তার এই উদ্ভাবন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছে।

তরুণ এই উদ্ভাবকের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ভূবন’ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব হবে।