৫০

রাজধানীর উত্তরা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ; ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ও ‘যে নদী মরু পথে’ খ্যাত বরেণ্য এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া।

ঢাকা: বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী যুগের খ্যাতিমান জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার (১১ই অক্টোবর ২০২৬) আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৪৪ সালের ৬ই আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে এক আভিজাত্যপূর্ণ সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের ঐতিহাসিক উকিলবাড়ি। চলচ্চিত্র অনুরাগী ও প্রয়াত অভিনেতা আনিসের উৎসাহে ষাটের দশকের প্রারম্ভে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তাঁর বর্ণাঢ্য অভিযাত্রা শুরু হয়। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক ছবি হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহ-চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। পরবর্তীতে একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত ‘তানহা’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়িকা শবনম, সুমিতা দেবী ও শামীম আরার মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন নাসিমা খান।

১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে নাসিমা খানের। এতে তাঁর বিপরীত অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা আনিস। ষাটের দশকজুড়ে তিনি বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষার বহু ক্লাসিক ও সুপারহিট চলচ্চিত্রে মেধা ও রূপের সাক্ষর রাখেন।

নাসিমা খান অভিনীত কালজয়ী ও স্মরণীয় অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ এবং ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

নন্দিত এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিল্পী ও পরিচালকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছে।