২৩

এক রাতের ব্যবধানে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার প্রভাবে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে জনজীবনে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই চট্টগ্রামে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বাগবিতণ্ডা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জ্বালানি তেলের নতুন দর অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যস্ততম মোড় ও বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বেরিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা। বাস ও হিউম্যান হলার চালকেরা সরকারি কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা চার্ট ছাড়াই ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালেই পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা বাধে।

ভোগান্তিতে পড়া এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো ঘোষণা ছাড়াই এক লাফে তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আর সকালে বের হয়েই দেখছি বাসে দিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই উৎসব দেখার যেন কেউ নেই।”

অন্যদিকে গণপরিবহন চালক ও শ্রমিকদের দাবি, হঠাৎ করেই লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। বিআরটিএ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন ভাড়া সমন্বয় না করা হলে এই বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলে জানান তারা।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম সরাসরি প্রভাব ফেলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ট্রাক ও পিকআপ ভাড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজি, চাল, ডালসহ জরুরি মালামালের দাম আর এক দফা বাড়ার আশঙ্কায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কপালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও বাজারে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকেরা।