২৮

ঢাকা: দেশে গণগ্রেপ্তার, ব্যাপক তল্লাশি, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টার অভিযোগও করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে গণগ্রেপ্তার, ব্যাপক তল্লাশি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে আইন, অধিকার ও জননিরাপত্তা নেই।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্লক রেইড ও ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই সংখ্যার পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার এ লক্ষ্যেই কাজ করছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। শেখ হাসিনার অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকটের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব বাড়ছে। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বিনিয়োগে স্থবিরতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুরোধটি আইনি বিবেচনাধীন রয়েছে।