৫২

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে তাঁর জোট এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের জোটও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে।

১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে এবারের নির্বাচন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে ৫২টিতে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন।

বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোরও সংসদে রেকর্ডসংখ্যক প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। এ পূর্বাভাসের পর দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে উদযাপন শুরু হয়েছে।

তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইহুদি ও জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর ডানপন্থী জোটের প্রতি ‘নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠের’ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে আরব দলগুলোকে ‘জায়নবাদবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ধ্বংসের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। সরকার গঠনে এসব দলের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের আলোচনা শেষ হতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট, সংখ্যালঘু সরকার, জাতীয় ঐক্যের সরকার কিংবা নতুন করে নির্বাচন—সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রয়েছে।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং জোট গঠনের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কোন পথে এগোবে, তা স্পষ্ট হচ্ছে না।