৩৪

শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় এবং হস্তান্তরের বিষয়ে সুসংগঠিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে; ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন’-এ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের স্পষ্ট বার্তা।

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ও আইনি কাঠামোর অধীন হওয়ায় তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন বলা সম্ভব নয়।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর একটি বিশেষ সেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হাইকমিশনার জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যকার আইনি সহযোগিতা ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনার ভারতে পৌঁছানোর তৎকালীন পেছনের পটভূমি তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী সে দেশে নিয়ে যায়নি। তৎকালীন বাংলাদেশে সৃষ্ট বিশেষ ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। ওই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে বিকল্প খুব কম ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, এক ভালো প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার অপ্রেক্ষিত ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ছিল ভারতের কূটনৈতিক দায়িত্ব।

দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় হাইকমিশনার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তা বিধানের পূর্ণ সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নেই এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের বহুমাত্রিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক বা লেনদেনভিত্তিক নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের যৌথ ঐতিহ্যের প্রতীক।” পরিবারে যেমন মতপার্থক্য থাকে, গণতান্ত্রিক দুটি দেশের মধ্যে টুকটাক মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত সংলাপ, বিশ্বাস ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।