২২

আইওয়া সফরের একদিন পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাঁ চোখের পাশে নতুন ক্ষতের দাগ দেখা দেওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে; হোয়াইট হাউস একে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়াশিংটন/ফোর্ট মেয়ার্স: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাঁ চোখের পাশে নতুন একটি শারীরিক আঘাত বা কালশিটের চিহ্ন (Bruise) দেখা যাওয়ার পর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে ফ্লোরিডার ফোর্ট মেয়ার্সে পৌঁছানোর সময় এই চিহ্নটি ক্যামেরাবন্দী হয়, যা এর আগের দিন আইওয়া সফরের সময় দেখা যায়নি।

ঘটনার পেছনের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ:

  • চোখের পাশের নতুন দাগ: প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের বাঁ চোখের ভ্রু থেকে গাল পর্যন্ত কালশিটে দাগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বা তাঁর কার্যালয় থেকে নির্দিষ্টভাবে এই দাগের কারণ হিসেবে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
  • হাতের দাগ ঢাকার চেষ্টা: একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা পুরোনো কালশিটের দাগ ঢাকতে হালকা মেকআপ ব্যবহার করা হয়েছিল।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট: ঘটনার পর ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে লেখেন— “একজন সুস্থ মানুষের এক হাজার স্বপ্ন থাকে, কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের স্বপ্ন কেবল একটিই (সুস্থ হয়ে ওঠা)!” তাঁর এই পোস্ট স্বাস্থ্য বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ও আগের বিতর্ক: হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল এসব দাবি ও আলোচনাকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘কনসপিরেসি থিওরি’ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মক্ষম রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের হাতে ও বাহুতে বেশ কিছুদিন ধরেই কালশিটের দাগ দেখা যাচ্ছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত করমর্দন, অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন কিংবা আসবাবপত্রের সাথে ধাক্কা লাগার মতো বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা এটিকে ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ (বার্ধক্যজনিত স্বাভাবিক শিরা সংক্রান্ত সমস্যা) বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তবে নতুন করে চোখের পাশে দাগ দেখা দেওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে তাঁর স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জল্পনা থামছে না।