২৭

সৌদি আরবে হুথীদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি; মার্কিন নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ বলে ট্রাম্পের দাবি।

ওয়াশিংটন / রিয়াদ: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন হামলা বন্ধে এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক সহায়তা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ই অক্টোবর ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতা নিরসনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রভাব কাজ করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হুথি সংকট নিরসনে তিনি অনুরোধ জানালে এরদোয়ান তা গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন। তবে এ বিষয়ে তুরস্ক ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিংবা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আঙ্কারার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে মার্কিন অর্থনীতিকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে হুথিরা এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ববর্তী হামলার পর হুথিরা কিছুকাল নিষ্ক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি ইরানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও নির্দেশনায় তারা ফের আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই জন বাংলাদেশী নাগরিকসহ অন্তত ১৩ থেকে ১৮ জন নিহত হন এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। হামলার কারণে আগামী ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটির সমস্ত ফ্লাইট ও কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সৌদির তেল জায়ান্ট আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করেও ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রয়েছে।