৩১

আমেরিকান মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রিয়াদের; কড়া রাজনৈতিক ও জনপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সেনাসংযোগ না করার পক্ষে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স।

রিয়াদ: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া একটি বিশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

আজ বুধবার (১৪ই অক্টোবর ২০২৬) ইসরায়েলি শীর্ষ দৈনিক ‘হাতেওরেতজ’ (Haaretz)-এর এক কূটনৈতিক প্রতিবেদনের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠান এবং হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে যুক্ত করার অনুমতি চান। তবে সৌদি আরবের দে ফাক্তো শাসক ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সেই আশঙ্কায় তিনি এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তেল আবিব আশা করেছিল মার্কিন দুই মিত্রের মধ্যে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে সৌদি-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (Abraham Accords)-এর আওতায় সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্র বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও রিয়াদ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। রিয়াদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও ক্রাউন প্রিন্সের অনুমোদন ছাড়া ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ হয়ে গেছে।