২১

চলমান নিরাপত্তা সংকটে বড় ধাক্কা খেল সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাত; আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করায় বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয়।

রিয়াদ: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পাইলটদের জন্য জারি করা নতুন এক জরুরি নোটিশ (NOTAM) অনুযায়ী, আগামী ১৭ই অক্টোবর রাত ৯টা (জিএমটি) পর্যন্ত এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

গত শনিবার বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিনশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর থেকেই সৌদির দ্বিতীয় ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরটির অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। এরপর রোববার ও সোমবারও দফায় দফায় হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ঘটনার পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ও কারিগরি পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হলো।

বিমান চলাচলে বৈশ্বিক প্রভাব ও এয়ারলাইনসগুলোর সিদ্ধান্ত:

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে অ্যাভিয়েশন খাতে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বিমান বিশ্লেষক ও সংস্থাগুলো একে বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।

  • ফ্লাইট বাতিল ও পরিবর্তন: লুফহানসা গ্রুপ, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটসের মতো আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বড় বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে বহির্গামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত অথবা দীর্ঘ মেয়াদে বাতিল ঘোষণা করেছে। ডেল্টা এয়ার লাইন্স তাদের আটলান্টা থেকে রিয়াদ রুটের নতুন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও আগামী মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পেছাতে বাধ্য হয়েছে।
  • নিরাপত্তা সতর্কতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর এভিয়েশন অথরিটি সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে যাত্রীবাহী বিমানগুলোকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অনেক এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যের রুট পরিবর্তন করে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করছে, যার ফলে ফ্লাইটের দূরত্ব ও সময় দুটোই অতিরিক্ত বেড়ে গেছে।

টানা এই হামলায় সৌদি আরবের সাধারণ অর্থনীতি এবং চলতি মাসে রিয়াদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ও বড় জমায়েতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।