২৪

ভোটার তালিকা সংশোধন ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে মহা-বিক্ষোভের ডাক; যন্তর মন্তরের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নজিরবিহীন পুলিশি কড়াকড়ি।

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে ভারতীয় তরুণ ও বিরোধী দলগুলোর প্রতি মোদি সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ রাজপথে নামায় ভয়ে মোদির পা কাঁপছে।

আজ শনিবার (১০ই অক্টোবর ২০২৬) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত মহা-বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন এই রাজনৈতিক নেতা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও এএনআই-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসির) পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে আজকের এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন ও রাস্তাঘাটে ব্যাপক ব্যারিকেড এবং ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরশাসক। তিনি দেশের সাধারণ তরুণদের প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন। সে কারণেই পুরো দিল্লির মেট্রো ও সড়ক যোগাযোগ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দেশের তরুণদের যদি তিনি এতটাই ভয় পান, তবে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কি দেশের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে চান? তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরকারপ্রধানদের কতটা প্রিয় যে তাঁকে বাঁচাতে নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে রাজপথে নামিয়ে দিতে হচ্ছে?”

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আজকের নির্ধারিত বিশাল গণজমায়েতকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমগ্র রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।