২২

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে স্মারকলিপি পেশ বিরোধী নেতাদের; রাষ্ট্রপতি ভবনকে রাজনীতিতে টানার অভিযোগে ক্ষুব্ধ বিজেপি।

নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের কারচুপি ও ভোট চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা সরাসরি অস্বীকার করেননি; বরং তিনি এ বিষয়ে প্রমাণ তলব করেছেন। রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ই অক্টোবর ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও এএনআই-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। পরবর্তীতে রাহুলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে চার দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “নির্বাচনে কীভাবে এবং কোথায় ভোট চুরি করা হয়েছে, তার সমস্ত অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের সময় আমরা যখন এই বিষয়গুলো তুলে ধরি, তিনি তা অস্বীকার করেননি।”

তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের এই বয়ান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানায়, দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক ও রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

অন্যদিকে, বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে রাহুল গান্ধী জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনের পর আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বিরোধী নেতারা। সেখানে প্রধান বিচারপতির হাতে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হবে।

বিরোধীদের প্রধান ৪টি দাবি: ১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন বাতিল করা। ২. ভোটার তালিকার এসআইআর কার্যক্রম স্থগিত করে তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল করা। ৩. ইভিএম বাদ দিয়ে দেশের সব নির্বাচনে পুনরায় কাগজের ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনা। ৪. গত দুই বছরে যেসব নির্বাচনে ভোট চুরির প্রমাণ মিলেছে, সেই নির্বাচনগুলো বাতিল ঘোষণা করা।

বিজেপির কঠোর সমালোচনা: এদিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করা এবং ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটাই কংগ্রেস ও বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে যা করা হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।