৫০

নন্দীগ্রামে রেকর্ড ব্যবধানে হাসি রানি রথ ও রেজিনগরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী শঙ্করভ সরকার; ফলাফলকে ঐতিহাসিক বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতকাল শুক্রবার (৯ই অক্টোবর ২০২৬) ভারতের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী হাসি রানি রথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন। হাসি রানি রথ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা আসনে ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শঙ্করভ সরকার। তিনি মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট পান। প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া বিশিষ্ট রাজনীতিক হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়েছিল। নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গোলাম নবী আজাদ ৫৪ হাজার ৯৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

উপনির্বাচনের এই ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার বিজেপির উন্নয়ন ও আন্দোলনের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই জয় আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।”

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এটিই ছিল প্রথম বড় উপনির্বাচনী পরীক্ষা। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর এই ফল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।