১৫

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার অবনতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতা ও লুটপাটে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি করেছে ফরাসি সরকার।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান তীব্র দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার জেরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সহিংসতা থামাতে কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান এই সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘটিত সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দেশটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে ইতোমধ্যে কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিস্তার: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া এবং জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। সার্বিক এই আন্দোলনে পুরো দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন।

যেসব অঞ্চলে কড়াকড়ি ও কারফিউ:

  • প্যারিস: রাজধানীর প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
  • অন্যান্য শহর: মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলের মতো প্রধান শহরগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ: পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে এই সহিংসতার জন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী, তাদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে সরকার। তাছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।

ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, চলমান দাঙ্গার কারণে দেশটিতে দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে দেশের কয়েকটি শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে খোলাখুলি স্বীকার করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।