২৬

ইরান ও ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতার সমালোচনার মাঝেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পুনঃদাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ কাঙ্ক্ষিত উপায়ে বন্ধ করতে না পারার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মাঝেই আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কারের পাওয়ার দাবি তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি কর্তৃক চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার প্রাক্কালে তিনি তাঁর এই দীর্ঘদিনের আকাঙ্খার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আগামীকাল শুক্রবার (৯ই অক্টোবর ২০২৬) নরওয়ের অসলো থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগে গত বুধবার (৭ই অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে আমি জানি না। তবে আমার মতো মানুষদের এই পুরস্কার না দেওয়ার একটা বদনাম তাদের রয়েছে।”

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বিশ্ব শান্তিতে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বারবার এই পুরস্কারের দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসে তিনি মন্তব্য করেন, “এখনই সময় এটি পাওয়ার। গতবার যিনি পুরস্কারটি পেয়েছিলেন, তিনি পরোক্ষভাবে তা আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ এটি পাওয়ার যোগ্য নয়।”

উল্লেখ্য, মার্কিন সহায়তা পাওয়ার আশায় ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর প্রাপ্ত ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর আটটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের দাবি তুলে ট্রাম্প নিজেকে শান্তির কারিগর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। এবার তাঁর নাম পাকিস্তান, ইসরাইল ও কম্বোডিয়ার মতো কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে বাস্তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক সফলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিকে নতুন সংকটে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং গাজা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো এগিয়ে রয়েছে।