২৩২

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-কে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে ১০ দফা আলোচনার রূপরেখা তৈরি হয়েছে, সেখানে লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে দুই নেতার আলোচনায় বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তেহরানের মতে, লেবাননে শান্তি নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। তবে লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান এই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় বুধবার অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলার পরিধি সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তার মতে, হিজবুল্লাহ ইস্যুর কারণে লেবাননের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ইসরায়েলও জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। ফলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও হামলাকারী সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানায়নি তেহরান।

পরবর্তীতে ইসরায়েল ‘ইটারনাল ডার্কনেস’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়। এতে মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের প্রায় ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা করা হয়।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরাক, কুয়েত ও কাতারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।