৩৬

প্রথম ধাপেই জয়ের দাবি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর; তবে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ার সম্ভাবনায় ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় ধাপ বা ‘রান-অফ’ নির্বাচনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাও পাওলো: দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের আগে নিজেদের শেষ প্রচার অভিযান সম্পন্ন করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থি সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র সাও পাওলোতে আয়োজিত বিশাল শোভাযাত্রা ও জনসভার মধ্য দিয়ে ৮০০ বছর বয়সী বামপন্থি নেতা লুলা তাঁর প্রচারণা শেষ করেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রথম ধাপেই বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র ও বর্বরতার মধ্যে লড়াই’ আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওয়াশিংটনের ‘মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ ও হস্তক্ষেপের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন লুলা।

অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো তাঁর কারাবন্দি বাবা ও সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ঐতিহ্য ধরে রেখে সাও পাওলোতে সুবিশাল মোটরসাইকেল র‍্যালি এবং রিও দে জেনেইরোতে জনসভার মাধ্যমে প্রচার শেষ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে ফলাফল উল্টে দেওয়ার চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নির্বাচিত হলে বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্ল্যাভিও।

শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, লড়াইয়ে লুলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিওর সঙ্গে তাঁর ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে। রোববারের প্রথম ধাপের ভোটে কোনো প্রার্থীরই এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বিজয়ী নির্ধারণে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপের (রান-অফ) ভোটাভুটি নিশ্চিত বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে তাঁর বাবার জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘ডার্ক হর্স’-এর অর্থায়নে আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং সাবেক প্রেসিডেন্টের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলার অভিযোগ উঠেছে।

প্রেসিডেন্ট পদের পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রায় ১৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার আজ কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা, সেনেটর ও রাজ্য গভর্নর নির্বাচনের জন্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি শক্তির সাম্প্রতিক উত্থানের মুখে এই নির্বাচন ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে।