২৬

ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় স্থানীয়দের হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে একাধিক শিক্ষার্থী আহত; মূল অভিযুক্ত সজলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্যাম্পাস ডেস্ক

খুলনা: ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় কিছু বহিরাগত। ঘটনা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় এ আশঙ্কাজনক ঘটনাটি ঘটে।

শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সজল নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেন। নিজের পরিচয় বিএল কলেজের শিক্ষার্থী দাবি করায় বিষয়টি সুরাহা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে কথা বলার জন্য খাজা গেট এলাকায় আসতে বলেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবির জানান, সজলের বিতর্কিত পোস্ট ও তার মোবাইলে মাদকসংক্রান্ত কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় দুই-তিনজন ব্যক্তি হুট করে সজলকে নিজেরাই মারধর করতে শুরু করেন।

শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক সুবিচারের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত সজলকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের গেটের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে বহিরাগত মনিরুজ্জামান লেলিন, বাবু ও রহিমের নেতৃত্বে একদল লোক এসে বাধা দেয়। পরে গেটে ধাক্কাধাক্কি করে যুবককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মাইকিং করে বহিরাগতদের জড়ো হতে আহ্বান জানায়। বহিরাগতদের ছোড়া ইটের আঘাতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সজলকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ডিএসএ) অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মসজিদের মাইক অপব্যবহারের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশকে ঘটনাটির পেছনে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।