৯৫

কয়েক ঘণ্টা পরই নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ খ্যাত জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা। তবে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মাঠের উত্তেজনার মাঝেই অফ-ফিল্ডে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। খেলা শুরুর আগে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যেখানে তিনি মেলে ধরেছেন নিজের শৈশব ও জীবনের না-বলা নানা গল্প।

দাদির বার্তায় চোখের জল

অনুষ্ঠানে ভিনিসিয়ুসের দাদি নিলজার একটি আবেগঘন বার্তা প্রচার করা হয়। দাদির সেই কণ্ঠস্বর শুনে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই বিশ্বসেরা তারকা। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে ভিনিসিয়ুস জানান, বাবা কাজের সূত্রে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় মা, ভাইবোন এবং দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছেন তিনি।

অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ভিনিসিয়ুস বলেন,

“আমাদের বাড়িটি খুব ছোট ছিল। অসংখ্য রাত আমি দাদির পাশেই ঘুমিয়েছি। সত্যি বলতে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি আমার জীবনে এমন এক ছাপ রেখে গেছেন, যা কখনো মুছে যাবে না। আমি জানি, একদিন মানুষ চলে যায়। তাই আমি তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যতটা সম্ভব হৃদয়ে ধরে রাখতে চাই।”

পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই বড় অর্জন

ফুটবলার হওয়ার পেছনে পরিবারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন ভিনিসিয়ুস। তিনি বলেন, তাঁর স্বপ্ন পূরণে তাঁর পরিবার মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব, তার সবকিছুই করেছে। তাই এখন তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

লক্ষ্য হেক্সা জয় ও বর্ণবাদের অবসান

ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) মিশন নিয়েও কথা বলেন এই তারকা। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, বর্তমান প্রজন্ম ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ট্রফি জয় করতে চায়।

একই সাথে স্প্যানিশ লা লিগাসহ বিভিন্ন মাঠে নিজের বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে আবারও কড়া অবস্থান নেন ভিনি। তিনি বলেন,

“আমার ছোট ভাইসহ আগামী প্রজন্ম যেন এমন বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটাই আমার কামনা। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বের কোটি কোটি কৃষ্ণাঙ্গ শিশুর অনুপ্রেরণা হওয়াকেও আমি নিজের বড় দায়িত্ব বলে মনে করি।”

ভিনিসিয়ুসের এই আবেগঘন বার্তা জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে বলেই বিশ্বাস ভক্ত-সমর্থকদের।