১০৬

ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ও রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড এই দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্সসহ ইউরোপের একাধিক দেশ। ফ্রান্সে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত গরমে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু পার্ক করা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে অতিরিক্ত গরমে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রশাসন।

বর্তমানে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক অঞ্চলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে সাধারণ জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

গাড়ির ভেতর শিশুর মৃত্যু, পানিতে ডুবে ১৩ জনের প্রাণহানি

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে পরিবারের একটি গাড়ির ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা গেছে, অতিরিক্ত গরমে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা মারাত্মক রূপ নেওয়ায় শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু হয়।

এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে তিন বয়োবৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে এবং শরীর ঠান্ডা করতে নদী ও জলাশয়ের পানিতে নামার পর অসাবধানতাবশত ডুবে আরও ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যেও রেকর্ডের আশঙ্কা, ইতালিতে ‘রেড অ্যালার্ট’

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও এই সপ্তাহে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সেখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে প্রচণ্ড গরমের কারণে ইতালির ১২টি প্রধান শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশজুড়ে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

কারণ ‘ওমেগা ব্লক’ ও জলবায়ু পরিবর্তন

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইউরোপে বর্তমানে ‘ওমেগা ব্লক’ (Omega Block) নামের একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি থেকে ধেয়ে আসা প্রচণ্ড গরম বাতাস ইউরোপের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে এবং একটি উচ্চচাপ বলয় তৈরি করে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকছে। ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ এখন আরও ঘন ঘন এবং তীব্র রূপ নিয়ে ফিরে আসছে, যা মানবজীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য এক বিশাল দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।