৭৭

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম দীপ্তি (১৮) এবং একই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সাবেক দাতা সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদের (৬০) বিয়ে নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। ৪২ বছরের বয়সের ব্যবধানের এই বিয়ে নিয়ে যখন আইনি লড়াই এবং সামাজিক আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামনে এলো এক নতুন ও চমকপ্রদ তথ্য। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, স্ত্রী দীপ্তির জন্ম হওয়ার অন্তত এক যুগ (১২ বছর) আগেই এসএসসি পাস করেছিলেন খন্দকার মোশতাক!

নথিপত্রে বয়সের বিস্তর ফারাক

অনুসন্ধানে জানা যায়, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৮৮ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে সফলতার সাথে এসএসসি পাস করেন। অন্যদিকে, তাঁর বর্তমান স্ত্রী সিনথিয়া ইসলাম দীপ্তির জন্ম নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে। অর্থাৎ, মোশতাক যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে স্কুলজীবন শেষ করছিলেন, তখনো এই পৃথিবীতে দীপ্তির অস্তিত্বের কোনো কল্পনাই ছিল না। মোশতাকের এসএসসি পাসের অন্তত ১২ থেকে ১৩ বছর পর জন্ম নেন দীপ্তি।

আইডিয়াল কলেজ থেকেই শুরু প্রেমের উপাখ্যান

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য থাকার সুবাদে খন্দকার মোশতাকের সাথে পরিচয় হয় কলেজ শাখার ছাত্রী দীপ্তির। ষাটোর্ধ্ব মোশতাকের গাড়ি, বিত্তবৈভব আর ব্যক্তিত্বের মোহে পড়েন মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণী দীপ্তি। ছাত্রীর অভিভাবকের করা মামলা এবং নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ভালোবেসে ঘর বাঁধেন তাঁরা। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রমাণ দিয়ে বিয়েকে বৈধতা দেন এই দম্পতি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও মোশতাক-দীপ্তির জবাব

এই অসম বয়সের বিয়ে নিয়ে নেট দুনিয়ায় ট্রল এবং সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই একে ‘টাকার খেলা’ বা ‘অস্বাভাবিক মানসিকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এসবে কান দিতে রাজি নন এই আলোচিত দম্পতি। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুক লাইভে এসে খন্দকার মোশতাক বলেন,

“প্রেম বা বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। আমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ে করেছি। আমি যখন এসএসসি পাস করেছি, তখন দীপ্তি জন্ম নেয়নি—এটা যেমন সত্য, তেমনি আজ আমরা একে অপরের জীবনসঙ্গী, এটাও সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য।”

অন্যদিকে দীপ্তিও তাঁর স্বামীর পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি মোশতাকের ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্বতা দেখেই প্রেমে পড়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা অত্যন্ত সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।

সামাজিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ

যদিও দেশের আইন অনুযায়ী দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতির বিয়েতে কোনো আইনি বাধা নেই, তবুও শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যের সাথে ছাত্রীর এমন সম্পর্ককে নৈতিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না সমাজের বড় একটি অংশ। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিত্তের প্রলোভনে তরুণ প্রজন্মের এমন সিদ্ধান্ত এবং পারিবারিক অনুশাসনের অভাব আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম নজির। তবে সমালোচনা কিংবা ট্রল যাই হোক না কেন, মোশতাক-দীপ্তির এই ‘অসম প্রেমের গল্প’ বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।