৭৯

বর্তমান ভূরাজনীতির নানা টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত বুধবার (২০ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা এই মন্তব্য করেন। ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বহির্বিশ্বের চাপ সত্ত্বেও বাড়ছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা: পুতিন

বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নানা উত্তেজনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “পশ্চিমা বিশ্বসহ বহির্বিশ্বের নানামুখী নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দিন দিন আরও গতিশীল এবং প্রসারিত হচ্ছে।”

রাজনৈতিক আস্থা ও কৌশলগত সমন্বয় আমাদের শক্তি: শি জিনপিং

রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি তুলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার সঙ্গে বেইজিংয়ের বর্তমান সম্পর্ককে ‘অটল ও দৃঢ়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “চলমান বহুমুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দুই দেশ পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা ও কৌশলগত সমন্বয় নিরবচ্ছিন্নভাবে বাড়িয়ে চলেছে।”

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর জোর

বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শি জিনপিং। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আবার আগের মতো স্থিতিশীল হবে। একই সাথে এর ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর থেকে চলমান কৃত্রিম চাপ ও সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে মস্কো ও বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা দূরত্বের মাঝে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফর ও পুতিন-শির উষ্ণ বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কো-বেইজিংয়ের অক্ষকে আরও শক্তিশালী করার একটি স্পষ্ট ও জোরালো ইঙ্গিত।