১০৪

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে গুলিতে নিহত আলী হোসেন (৪৫)-এর মরদেহ ১৭ ঘণ্টা পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হস্তান্তর করেছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি বিওপি সীমান্তের পিলার ৮৬৮/৩ এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশ-এর সহায়তায় নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ধবলগুড়ি বিওপি কমান্ডার সুবেদার আমিরুল ইসলাম এবং বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের শ্রীমুখ কোম্পানি কমান্ডার এসি রাজেশ কুমার যাদব উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ধবলগুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে আলী হোসেন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত আলী হোসেন ওই এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় চোরাচালানিদের সহায়তায় ৭-৮ জনের একটি দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বিএসএফ প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে দলটি প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে পুনরায় গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যরা পালিয়ে এলেও তার মরদেহ বিএসএফ নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস নম্বর পিলার এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের পক্ষে ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সৌরভ।

বিএসএফ কমান্ড্যান্ট বিজিবিকে জানান, নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত চোরাচালানকারী ছিলেন এবং চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় এক বিএসএফ সদস্যকে আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত নেওয়া হয়েছে।