১৬

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে দাম বেড়েছে ৭ হাজার ২২৫ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এই মূল্য।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ৬৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৮ হাজার ৮০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৯০ টাকা।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৩৯ টাকা। সেদিনও দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি হলো।

বেড়েছে রুপার দামও

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অলংকারের নকশা ও ধরনভেদে মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

পুরোনো অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম থাকবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই দর কার্যকর থাকবে।

এ বছর ১৩২ বার সমন্বয় হলো স্বর্ণের দাম

চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে এ নিয়ে ১৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৬৭ বার। আর একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল সংগঠনটি। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানোর বিপরীতে ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য সমন্বয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে অলংকারের বাজারেও।