১৩

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত রোববার একই মামলায় দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ওই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দিশার মধ্যে কোনো বিরোধ বা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের সম্পর্কের আগের কোনো টানাপোড়েন ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও সময় কাটানোর তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি খাবারের দোকান এবং নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যাওয়ার বিষয় রয়েছে। ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে যাওয়া ও মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যাওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, এসব স্থানে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দিশার দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণেও দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিশা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের জন্য তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।

মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপেরও দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান। দিশা বা অন্য কোনো আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।