২৫

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তিনি প্রার্থী না হওয়ায় পর্যাপ্ত ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে ফোনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি মেনে নিতে প্রস্তুত। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ধাক্কার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসে। নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে এগিয়ে থাকায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না বলেই রিপাবলিকানরা প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে আনতে পারেনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও একই দাবি করেন তিনি। সেখানে লেখেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয় পেত।

নির্বাচনে নিজের সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীর পরাজয় নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর ডার্লিন গ্রাহাম এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মতো প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে কোনো ভুল করেননি বলে জানান তিনি। তবে ডার্লিনের পরাজয়ের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম নির্বাচনে অংশ নিলে জিততে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর মতে, যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে এই সময়টি সবচেয়ে সফল দুই বছরের মধ্যে অন্যতম।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুতপ্ত নন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুযোগ পেলে একই সিদ্ধান্ত আবারও নেবেন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের একটি কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কথা স্বীকার করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল দেখার সময় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ ধরনের ক্ষোভের ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, সরকারের ঋণসীমা নির্ধারণের মতো বিষয়ে দুই দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে। ভালো কোনো প্রস্তাব এলে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আগ্রহী বলেও জানান।