১০

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকার আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সকাল আটটা থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা বাইপাস সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। সকাল নয়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চন্দ্রা, কোনাবাড়ী ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করছেন।

আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছিল। নরসিংহপুর এলাকার বেশির ভাগ কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। পরে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে আশুলিয়ার কয়েকটি এলাকার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

ছুটি ঘোষণার পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কারখানার শ্রমিক আবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

গত শনিবার থেকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।