৯

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর আকস্মিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিনোদন অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা থাকলেও তিন বছর পরও সেই রহস্যের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির তথ্য সামনে আসেনি।

মৃত্যুর দিন হিমুকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানেই তাঁর মরদেহ রাখা হয়। ওই সময় তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আত্মহত্যা ও হত্যার মতো নানা সন্দেহের কথা আলোচনায় আসে। মৃত্যুর পরদিন এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তৎকালীন সময়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবীব নাসিম জানিয়েছিলেন, হিমুকে হাসপাতালে রেখে একজন চলে যান। একই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা কারও দায় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি তিনি।

১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন হোমায়রা হিমু। ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। স্থানীয় নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে কাজ করার পর ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় আসেন। পরে নাগরিক নাট্যাঙ্গনে যুক্ত হয়ে মঞ্চে অভিনয় চালিয়ে যান।

মঞ্চের অভিজ্ঞতা থেকে ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনচিত্র ও টেলিভিশন নাটকে কাজের সুযোগ তৈরি হয় তাঁর। একটি চায়ের বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁকে দেখে নির্মাতা তাহের শিপন নাটকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। ‘পি আই’ ছিল তাঁর অভিনীত প্রথম নাটকগুলোর একটি। ২০০৫ সাল থেকে বিনোদন অঙ্গনে নিয়মিত কাজ শুরু করেন হিমু।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ‘সোনাঘাট’, ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’, ‘বাটিঘর’, ‘শোনে না সে শোনে না’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘চাপাবাজ’ ও ‘ছায়াবিবি’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রে তরু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রীর জীবন থেমে যায় মাত্র ৩৭ বছর বয়সে। তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেদিন কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।