৫২

জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ প্রায় ৪০ শতাংশ; যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের ঋণের হার বেশ চড়া।

ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার বেশ কম ও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ঋণের চিত্র: আইএমএফ-এর তথ্যভিত্তিক ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণের অনুপাত নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ভারত: জিডিপির প্রায় ৮৩ শতাংশ।
  • পাকিস্তান: জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ।
  • শ্রীলঙ্কা: জিডিপির প্রায় ৯৫ শতাংশ।
  • মালদ্বীপ: জিডিপির প্রায় ১৩১ শতাংশ।
  • ভুটান: জিডিপির প্রায় ১১৬ শতাংশ।
  • নেপাল: জিডিপির প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এই হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ভারতের অর্ধেকেরও কম এবং পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বেশ কম। এমনকি মালদ্বীপ ও ভুটানের ক্ষেত্রে সরকারি ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের আকারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ মতামত: অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের হার কম থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়ন খাতের ব্যয়ে সরকারের নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে ঋণ গ্রহণে টেকসই নীতি অনুসরণ, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণের সঠিক অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে মানসম্মত রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।